আগের দিনের লেখকেরা লেখক হওয়া মাত্রই একটা কইরা ট্রাঙ্ক কিনা ফেলতেন। তাদের যাবতীয় লেখাপত্র সেই ট্রাঙ্কের ভিতরে সযত্নে তালাবদ্ধ কইরা সংরক্ষন করতেন তারা। কাফকা থেকা শুরু কইরা জীবনানন্দ পর্যন্ত প্রত্যেকেই মৃত্যুর আগে আগে সেই তালার চাবিগুলা দুর্গম স্থানে লুকায়া ফেলতে সক্ষম হইছিলেন। ফলে, তাদের মৃত্যুর পরে ঘনিষ্ঠরা প্রথম সুযোগেই সেই ট্রাঙ্ক ভাইঙ্গা ফেলতেন।

তো, নবীন লেখকদের ট্রাঙ্ক কিনতে উতসাহিত কইরা বিভিন্ন বুদ্ধি পরামর্শও দিয়া গেছেন তারা। যেমন, কবিতা লেইখা প্রকাশ করার আগে কমপক্ষে আট বছর পর্যন্ত ফালায়া রাখতে বলছেন কেউ কেউ। বাট, তাদের এই সকল কথাবার্তায় এখন আর কারও কানে পানি যায় না।

এখনকার লোকেরা লেখা শুরুর আগেই স্ট্যাটাস দেন, ‘সামনের বইমেলায় মাউড়াদের দুঃখ দুর্দশা নিয়া একটা সিরিয়াস উপন্যাসে হাত দিছি। দোয়াপ্রার্থী।’ কবিতা তো লেখার আগেই অনলাইনে পাবলিশ। নিজেদেরকে তরুন দাবী করতে করতে মুখে ফেনা তুইলা ফেলা লেখকেরাও বছর বছর একাধিক বই প্রকাশ কইরা দিতেছেন। ফেসবুক প্রোফাইল পিক হিসেবে তাদের সেই বইগুলার প্রচ্ছদ শোভা পায়। আর প্রায়তরুন লেখকেরাও সমবায় সমিতি কইরা ‘বেয়াল্লিশ পদাবলি ‘ নাম দিয়া সবার কমবেশি কবিতা নিয়া চাইর ফর্মা হিসাবে বই কইরা ফেলতেছেন। সেইক্ষেত্রে, সবার প্রোফাইল পিক থাকে একই প্রচ্ছদ।

আর, পুরষ্কারের কথা বইলা বিতর্ক আর নাই করলাম।

সাহিত্যের বয়সে যারা আমার সমসাময়িক, তাদের প্রায় প্রত্যেকেই গত বইমেলায় বই করছেন। যারা বাদ পড়ছিলেন, তারা এইবার একযোগে কইরা ফেলতেছেন। তাদেরকে শুভকামনা। আমি গভীর আগ্রহ নিয়া পকেট খালি কইরা তাদের প্রত্যেকের বই সংগ্রহ করতে থাকি এবং থাকবো।

কিন্তু আপদ হইলো, আমি কোন বই করি নাই, কবে করবো তেমন কোন সিদ্ধান্তও আমার ছিল না। ফলে, সিনিয়র সাহিত্যিকেরা ভুরু নাচাইয়া বলেন, সবাই তো কইরা ফেলছে, আপনে কি করলেন? আমি এতদিন তাদেরকে বিনয়ের সাথে জানাইতাম, ট্রাঙ্কে ভইরা থুইয়া দিতেছি। কিন্তু, কতদিন আর এইভাবে চলে? ফলে, তারা আমার ট্রাঙ্ক নিয়া সন্দেহ পোষন করা শুরু করছেন। কিংবা, একসময় তারা হয়তো সন্দেহ করতেছেন যে, আমার কোন ট্রাঙ্কই আসলে নাই।

আসলে আছে। সেই ট্রাঙ্ক খোলা হইছে। কাভার কমপ্লিট। প্রকাশকও রেডি।

বই আসতেছে! বাংলা বই।